হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রমজান এলেই বদলে যায় বিকেলের দৃশ্য। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। কেউ বাজারের ব্যাগ হাতে ফিরছেন, কেউ মাঠে পত্রিকা বা চাদর বিছিয়ে ইফতারি সাজাচ্ছেন। আজানের আগে সেই অপেক্ষার মুহূর্তে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় এক শান্ত, আন্তরিক পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই হল বা মেসকেন্দ্রিক জীবনে অভ্যস্ত। পরিবার থেকে দূরে থেকে রোজা রাখা সহজ নয়। তাই বন্ধুরাই হয়ে ওঠে ভরসা। সম্মিলিত ইফতার যেন সেই দূরত্বটাকে কিছুটা কমিয়ে দেয়।কৃষি অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন,“পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করেও একই রকম উষ্ণতা পাই। মনে হয়, আমরা সবাই একটা বড় পরিবারের অংশ”
ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে ইফতারের এই মিলনমেলা। শহীদ নূর হোসেন হল মাঠ, স্কুল মাঠ, আবরার ফাহাদ হল মাঠ, টিএসসি, বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের ছাদ আর ফাঁকা জায়গাগুলো বিকেল গড়াতেই ভরে ওঠে দল বেঁধে বসা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে। শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নয়, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, জেলা সমিতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্লাবও আয়োজন করে বড় পরিসরের সম্মিলিত ইফতার। শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় এক ভিন্নমাত্রার উৎসবমুখর পরিবেশ।
খাবারের তালিকায় থাকে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, খেজুর, ফল,শরবত ও বাহারি রকমের খাবার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাঁদা তুলে একসঙ্গে কেনা হয় ইফতার সামগ্রী। আবার কেউ নিজের পছন্দের খাবার নিয়ে এসে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন। এই ভাগাভাগির মধ্যেই গড়ে ওঠে আন্তরিকতা, তৈরি হয় আলাদা এক বন্ধনের অনুভূতি।
এই সম্মিলিত ইফতার শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সহমর্মিতার প্রকাশ। মুসলিম শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্ধুরাও অংশ নেন এই আয়োজনে। তারা কেউ ইফতার প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেন, কেউ পাশে বসে গল্পে যোগ দেন।
প্রতিবছরই রমজান মাসে এ ধরনের সম্মিলিত ইফতার এখন হাবিপ্রবির এক পরিচিত চিত্র। দূরে থাকা পরিবার-পরিজনের অভাব কিছুটা কমে আসে বন্ধুদের সান্নিধ্যে।