নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে লোকসানের মুখে আলু চাষিরা

মো. খোকন মিয়া
কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা। বর্তমানে স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকা দরে। অন্যদিকে ক্ষেত থেকে পাইকারি বাজারে চাষিরা আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও বাজারদরের কারণে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না। চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৬শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ডাকঘরপাড়া গ্রামের আলু চাষি মিলন শাহ বলেন, “যেসব দেশে আলু চাষ হয় না, সেসব দেশে সরকারিভাবে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতেন। একই সঙ্গে দেশে বৈদেশিক মুদ্রাও আসত।”

রোববার সরেজমিনে চাঁদখানা ইউনিয়নের শাহপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় আলু চাষি মো. বাদশা রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, “২০ শতক জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমার জমিতে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কেজি আলু উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে আলু বিক্রি করলে লাভ তো দূরের কথা, নিশ্চিত লোকসান গুনতে হবে।”

কিশোরগঞ্জ বাজারের এক আলু ব্যবসায়ী বলেন, “গত বছর আলুর দাম বেশি হওয়ায় সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের নামে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য করেছিল। অথচ এবার কৃষকরা বিপাকে পড়লেও বাজারে তেমন কোনো নজরদারি দেখা যাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লোকমান আলম বলেন, “গত এক সপ্তাহের তুলনায় আজ আলুর দাম কিছুটা বেড়েছে। আগামী সপ্তাহে দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ শিগগিরই হিমাগারগুলোতে আলু বুকিং শুরু হবে। গত বছরও প্রথম দিকে এমন পরিস্থিতি ছিল, পরে কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছেন।”

স্থানীয় চাষিরা দ্রুত বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, না হলে অনেক কৃষক আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *