মো. খোকন মিয়া
প্রতিনিধি, নীলফামারী কিশোরগঞ্জ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকেরা ইতোমধ্যেই সেভেনসহ বিভিন্ন আগাম আলুর জাত তুলতে শুরু করেছেন। বাজারে কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় আলু বিক্রি হওয়ায় তারা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
গত মৌসুমে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়লেও কৃষকেরা এবারও আগাম ও মাঝারি জাতের আলু চাষে আগ্রহ হারাননি। কেশবা গ্রামের কৃষক সোরহাব হোসেন সোমবার ৫৯ শতক জমি থেকে মাত্র ৫৫ দিনে ৩৫০ কেজি সেভেন জাতের আলু সংগ্রহ করেছেন। সাইজ ছোট হওয়ায় তিনি কেজি ৪০ টাকা দরে আলু বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, “দেশে প্রথম কিশোরগঞ্জেই আলু তোলা শুরু হয়। আর এক সপ্তাহ পর পূর্ণোদ্যমে উত্তোলন শুরু হবে।”
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আলু ক্ষেত দেখে কৃষকের মুখে এখন আশার হাসি। দুর্গাপূজার আগের বৃষ্টিতে মাঠ কর্দমাক্ত হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো রোগবালাইয়ের আক্রমণ হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও আশানুরূপ হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
এদিকে, মাঠে আমন ধান শুকানোর পাশাপাশি কৃষকেরা বীজ আলু রোপণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তারা জানান, ১৫–২০ দিনের গজানো বীজ রোপণ করলে ৫০ দিনেই তা হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত হবে।
পানিয়ালপুকুর এলাকার কৃষক আল-আমিন ৭০ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছেন। তার আলুর বয়স এখন ৩৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে। দাম নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও তিনি ফলন ভালো হলে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন। যদুমনি এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান লুতু বলেন, “গত মৌসুমে হিমাগারে রাখা ৬ হাজার বস্তা আলুতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তারপরও ১৩ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছি এবং ৩০ বিঘা জমিতে বীজ আলু রোপণের পরিকল্পনা আছে। ফলন ভালো হলে লোকসান পোষানো যাবে।”
কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, এ বছর উপজেলায় ৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪৩০ হেক্টরে আগাম আলু। তিনি বলেন, “মৌসুমের শুরুতে নতুন আলুর চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকেরা ভালো দাম পান। সেভেন জাতের আলু মাত্র ৫৫-৬০ দিনেই তোলা যায়, তাই লাভও বেশি।” তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা কিশোরগঞ্জে আসা শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে এ বছর উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
আগাম আলুর ভালো ফলন ও বাজারদর কৃষকদের কষ্ট লাঘব করবে এবং তাদের ঘরে আবারও সুখের পরশ বয়ে আনবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।